আজ ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

র‌্যাবের ফাঁদে মোটর সাইকেল ও গাঁজাসহ সাংবাদিক শরিফুল আবারও আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া মোড় থেকে র‌্যাব-৬ গাঁজাসহ কথিত সাংবাদিক শরিফুল ইসলামকে (২৬) আটক করেছে। তার কাছ থেকে ২ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। সে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে। এ নিয়ে সে দ্বিতীয় বারের মতো গ্রেফতার হলো।
র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের সিনিয়র এএসপি মোঃ বজলুর রশীদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারই নেতৃত্বে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া মোড়ের খোকন ট্রেডার্স এর সামনে সাতক্ষীরা-যশোর গামী পাকা রাস্তার ওপর অভিযান চালানো হয়। এ সময় সাংবাদিক শরিফুল ইসলামকে টি লাল রংয়ের আরটিআর এ্যাপাচি মোটরসাইকেল ও দুই কেজি গাঁজাসহ হাতে নাতে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২৪ ঘন্টা টিভির একটি আইডি কার্ড, একটি কালো রংয়ের ঘঙকওঅ-১৫০ মডেলের বাটন মোবাইল ফোন, একটি কালো রংয়ের ঠওঠঙ-১৮০৬ মডেলের এন্ড্রুয়েড মোবাইল ফোন এবং আট হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-১১, তারিখ ০৭/১২/২০২০। ধারা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২০১৮-এর ৩৬ (১) টেবিল ১৯(ক)।
এর আগে ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা সীমান্তে ৫০ বোতল ফেনসিডিল সহ কথিত সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম প্রথম বার গ্রেফতার হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৩৩ ব্যাটালিয়ন কাকডাঙ্গা সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে। ঘটনার দিন বিকালে এ্যাপাসি ১৬০ সিসি মোটর সাইকেলে যোগে ৫০ বোতল ফেনসিডিল নিয়ে কাকডাঙ্গা সীমান্ত ফাঁড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কোম্পানি কমান্ডার নূরে আলমের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করে থামানোর চেষ্টা করে। সে টহলরত বিজিবি সদস্যদের ভীতি দেখিয়ে পালাবার সময় গ্রেফতার করে। এ সময় সাতক্ষীরার দৈনিক পত্রদূত, দৈনিক দক্ষিণাদূত ও ২৪ঘন্টার টিভির পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। আটককৃত ঐ মাদক ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছে। সে সীমান্তের চোরাকারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়  করে থাকে।
কেঁড়াগাছি গ্রামবাসীরা জানান, হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হওয়া শরিফল ইসলামের পৈতৃক সম্পত্তি বলতে ১০ কাঠা ভিটাবাড়ি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। হঠাৎ এপাছি মোটর সাইকেল কেনা, গরু ও ছাগল জবাই করে মেয়ের জন্মদিন পালন করে। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে মাদক সম্রাট বনে যাওয়া শরিফুল ইসলাম প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ও ব্লাকমেইল করে আসছিল। প্রতিবেশী এক গৃহবধূকে নিয়ে পলিয়ে যায়।
তার মোটর সাইকেলের হেডে ‘২৪ ঘন্টা, ২৪মযড়হঃধ.ঞঠ, ডিজিটাল বাংলার প্রতিচ্ছবি’ স্টিকার মারা থাকে। সে নাকি এই টেলিভিশনের সাংবাদিক। ঠিকানা বিহীন এই টিভি চ্যানেল কখন দেখা যায়? কে অনুমোদন দিয়েছে? কেউ জানেন না। জাকির হোসেন হলেন এই চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এর সাথে জড়িত আছেন আনিসুর রহমান, আব্দুস সামাদ আর আসিফ ইকবাল। এই ‘ডিজিটাল বাংলার প্রতিচ্ছবি’র চেয়ারম্যান হলেন খালিদ হাসান শান্ত। তিনি ২৪ ঘন্টা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান। খালিদ হাসান শান্ত গত ঈদল আজহার আগের দিন অপহরণ মামলায় যশোর জেলখানায় যায়। এই চক্রটি বিভিন্ন প্রকার সীমান্ত অপরাধের সাথে জড়িত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর

মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা