আজ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চলতি অর্থ বছরে গত পাচ মাসে ভোমরা স্তল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ১২০ কোটি টাকা

মোঃসাইফুল কবির মিন্টুঃ রাজস্ব ঘাটতি বেড়েই চলেছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব ঘাটতি পড়েছে ১২০ কোটি টাকার উপরে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ শতাংশ কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ বন্দরে আমদানি-রফতানি হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে করোনার প্রভাব অন্যতম। তবে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, শুধু করোনা সংকটই নয়, এ বন্দরে পণ্য আমদানিতে নানা বৈষম্যের কারণও রয়েছে। অন্যান্য বন্দরে পণ্য আমদানিতে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা ভোমরা বন্দরে দেয়া হয় না। এ কারণে রাজস্ব কমে যাচ্ছে। ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪২০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৭৩ কোটি ৫২ লাখ, আগস্টে ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৬৭ কোটি ৬৮ লাখ, অক্টোবরে ৮৮ কোটি ৭ লাখ টাকা ও নভেম্বরে ১১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে গেল পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩০০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫৪ কোটি ৭৩ লাখ, আগস্টে ৪৬ কোটি ৪১ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৫৩ কোটি ৯৩ লাখ, অক্টোবরে ৭২ কোটি ১৯ লাখ ও নভেম্বরে ৭৩ কোটি ৪৬ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১২০ কোটি ২২ লাখ টাকা ঘাটতি। সূত্রটি আরো জানান, আগের অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভোমরা বন্দরে রাজস্ব অর্জিত হয়েছিল ৩১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী গত অর্থবছরের তুলনায়ও চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে এখনো ১২ কোটি টাকা ৪১ লাখ টাকা ঘাটতি। ভোমরা স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব আরাফাত হোসেন জানান, একদিকে যেমন করোনা সংকট, অন্যদিকে রয়েছে ভোমরা বন্দরে পণ্য আমদানিতে বৈষম্য। পার্শ্ববর্তী বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য আমদানিতে যে সুযোগ-সুবিধা ব্যবসায়ীদের দেয়া হয়, তার কিছুই পান না ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারীরা। বিশেষ করে ফল আমদানিতে ট্রাকপ্রতি তিন-চার টন ফলের ডিউটি ছাড় দেয়া হয় বেনাপোল স্থলবন্দরে। কিন্তু ভোমরা বন্দরে এক ট্রাক ফল আমদানিতে পাঁচ কেজিও ডিউটি ছাড় দেয়া হয় না। তাছাড়া পূর্ণাঙ্গ বন্দর হওয়া সত্ত্বেও অল আইটেম পণ্য আমদানি করা যায় না এখানে। ফলে ব্যবসায়ীরা ভোমরা বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে সরকার তার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছে না। ভোমরা শুল্কস্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমির মামুন বলেন, পণ্য আমদানি-রফতানির ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আয়। কিন্তু পণ্য যদি আমদানি-রফতানি কম হয় তাহলে রাজস্ব আয়ের পরিমাণও কমে যাবে। তার পরও চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে বাকি মাসগুলোর মধ্যে মোট লক্ষ্য অর্জিত হয়। উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৭৩ কোটি ৫২ লাখ, আগস্টে ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৬৭ কোটি ৬৮ লাখ, অক্টোবরে ৮৮ কোটি ৭ লাখ, নভেম্বরে ১১৪ কোটি ৮ লাখ, ডিসেম্বরে ১৩১ কোটি ৭ লাখ, জানুয়ারিতে ১৩২ কোটি ৫৫ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ১৫৫ কোটি ২৭ লাখ, মার্চে ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ এবং জুনে ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। এবার গত অর্থবছরের তুলনায় ১৬৩ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সূত্রটি জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছর ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর