আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাত পোহালেই সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাচন

 নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ রাত পোহালে রোববার ভোট। বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচন। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার মক ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমবারের মত পৌর নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য ভোটারদের সচেতন করতেই মক ভোটের আয়োজন করা হয়। এবারের নির্বাচনে সাতক্ষীরা পৌরসভার সকল মেয়র, সকল নারী কাউন্সিলর এবং সকল সাধারন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে সাতক্ষীরা পৌরসভার উন্নয়ন করবেন বলে ঘোষনা করেছেন। শুক্রবার রাত ১২টায় এই প্রচারের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকে প্রার্থীরা কোন মাইকিং প্রচার ছাড়াই বাড়ি বাড়ি যেয়ে ঘরোয়াভাবে তাদের সমর্থনে ভোট প্রার্থনা করবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। এবারের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ নাসেরুল হক। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। মাঠে রয়েছেন বর্তমান মেয়র বিএনপির তাসকিন আহমেদ চিশতী। তিনি লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নারকেলগাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক যুবদল নেতা নাসিম ফারুক খান মিঠু। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা মো: নুরুল হুদা। তিনি লড়ছেন জগ প্রতীক নিয়ে। অন্যদিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী এসএম মুস্তাফিজুর রউফ মাঠে রয়েছেন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে। সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে এবারের ভোটার সংখ্যা ৮৯ হাজার ২২৪। এর মধ্যে নারী ভোটার ৪৫ হাজার ৮০৬ এবং পুরুষ ভোটার ৪৩ হাজার ৪১৮ জন। সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হয়েছেন ১২ জন নারী। এরা হলেন তাজিনা আক্তার (আনারস), নূরজাহান বেগম (জবা ফুল) ও জোৎ¯œা আরা (চশমা) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। অনিমা রানী মন্ডল(আনারস), ফরিদা আক্তার বানু(জবা ফুল), মরিয়ম পারভিন(টেলিফোন) এবং মোছা: রওশন আরা(চশমা) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। অপরদিকে গুলশান আরা(চশমা), ফারাহ্ দিবা খান সাথী(বলপেন), রাবেয়া পারভিন(জবা ফুল), মোছা: রুবিনা জামান খান চৌধুরী(আনারস) এবং সাহিদা আক্তার(অটোরিক্সা) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। সাধারন কাউন্সিলর পদে মাঠে নেমেছেন ৫২ জন প্রার্থী। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৭টি কেন্দ্রের ২৪৮টি বুথে ভোটাররা ভোট প্রদান করবেন। ৩৬.৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্তমান লোকসংখ্যা প্রায় ২ লাখ। প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখানে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়নি। ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বিপর্যয়, সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা এবড়ো থেবড়ো রাস্তা, অপরিষ্কার এবং কচুরিপানায় ভর্তি সাতক্ষীরার বদ্ধ খাল প্রানসায়ের সহ নানা সমস্যা বিরাজ করছে এই পৌরসভায়। এখানে বিনোদনের সুযোগ রয়েছে কম। রাস্তাঘাট যানবাহনের তুলনায় যথেষ্ট চওড়া নয় এবং লাইসেন্স বিহীন যানবাহনের দাপট এ সবই পৌরসভার সংকট। বর্জ্য নিষ্কাশন, পয়ঃনিষ্কাশন সহ নানা সংকটের মুখোমুখি সাতক্ষীরা পৌরসভা। তবে মেয়র প্রার্থীরা এসব সমস্যা সম্পর্কে সম্যক ধারনা নিয়ে জনগনের সামনে আসছেন। তারা সব সমস্যার সমাধানের জন্য প্রানপন চেষ্টা করবেন বলে ওয়াদা দিচ্ছেন। নৌকা প্রতীকধারী প্রার্থী শেখ নাসেরুল হক বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় উন্নীত করাই তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিতে চাই। এবং আমার মরহুম পিতা সাবেক মেয়র শেখ আশরাফুল হকের পথ অনুসরন করে পৌরসভাকে সাজাতে চাই। ধানের শীষ প্রতীকধারী প্রার্থী তাসকিন আহমেদ চিশতী বলেন, পৌরসভার অনেক সমস্যার সমাধান গত ৫ বছরে করতে সক্ষম হয়েছি। আর যেসব সমস্যার সমাধান করা যায়নি এবার নির্বাচিত হলে তা সমাধান করবো। তিনি বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নারকেলগাছ প্রতীকধারী প্রার্থী নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, একটি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা হিসাবে সাতক্ষীরার যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। আমি জনগনের সমর্থন নিয়ে আন্তরিকভাবে সমুদয় সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো। জগ প্রতীকধারী প্রার্থী নুরুল হুদা বলেছেন, পৌর এলাকায় তার বহু সমর্থক রয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি জনগনের চাহিদা পূরনের চেষ্টা করবেন। হাতপাখা প্রতীকধারী মুস্তাফিজুর রউফ বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আমার দায়িত্ব হবে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা এবং তা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা। একইভাবে সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী এবং সাধারন কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে জনগনকে বলছেন, নির্বাচিত হলে সব সমস্যার সমাধান করবেন। এবার নির্বাচিত হবেন ৩৪ তম মেয়র। এর আগে ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠাকালের সাতক্ষীরা মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন জমিদার প্রাননাথ রায় চৌধুরী। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩৩তম মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির তাসকিন আহমেদ চিশতী। তিনি দায়িত্ব গ্রহন করেন ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। তার আগে ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিএনপির আব্দুল জলিল। তিনি দায়িত্ব গ্রহন করেন একই সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। তার আগে ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পৌর চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের শেখ আশরাফুল হক। এর আগে ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আশরাফুল হক জয়লাভ করে ২০০৪ এর ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকেন। তার আগে ১৯৯৩ সালের ২৯ মার্চ থেকে ১৯৯৯ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুল জলিল। এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে সাতক্ষীরা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন মো: সিরাজুদ্দৌলা, মো: আব্দুল মালেক, মো: আকবর আলী, মোজাহার আলী, এমএ আকবর, মো: মোজাহার আলী, এমএ শুকুর, এমএ ফজল, মো: সাইফুজ্জামান, মো: মোজাহার আলী, নূর আহমেদ খান, আবুল কাশেম, মোহাম্মদ কামরুল হুদা, মো: হোসেন, ওয়াজেদুল হক, মো: আব্দুল গফুর, মো: আব্দুল জব্বার, ভবেন্দ্রনাথ রায়, মো: আব্দুল জব্বার খান, লীলাপদ মজুমদার, নিরোধ চন্দ্র চ্যাটার্জী, দেবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, যতীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী, শৈলজা নাথ রায় চৌধুরী, হরনাথ মজুমদার, গিরিজানাথ রায় চৌধুরী, হরনাথ মজুমদার, গিরিজানাথ রায় চৌধুরী এবং ১৮৮৫ থেকে ১৮৯৪ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন জমিদার প্রাননাথ রায় চৌধুরী। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের মধ্যে রয়েছেন মহকুমা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ম্যাজিস্ট্রেট। আগামীকাল রোববার ৩৪তম মেয়র নির্বাচিত করবেন সাতক্ষীরার ভোটাররা। সাতক্ষীরায় ভোটের প্রচারকালে ছিল শান্তিপূর্ন পরিবেশ। কাল একইভাবে শান্তিপূর্নভাবে মানুষ ভোটদান করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এরই মধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌছে যাবে ভোটের সরঞ্জাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর