আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দেবহাটায় ‘মা কে মারপিট’ সংক্রান্ত সংবাদে ছেলের প্রতিবাদ

গত ২৭ ফেব্রুয়ারী সাতক্ষীরার দৈনিক কালেরচিত্র, দৈনিক পত্রদূত, দৈনিক আজকের সাতক্ষীরাসহ একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘দেবহাটায় ছেলে কর্তৃক মাকে মারপিট’ শীর্ষক ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদে আমার বিরুদ্ধে মাকে মারপিটের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা। আমি আমার মাকে কোন প্রকার মারপিট করিনি এবং ঘটনার সময় মায়ের সাথে উচ্চ স্বরেও কথা বলিনি (ঘটনাকালীন সময়ের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত)। প্রকৃতপক্ষে হিন্দু আইন মোতাবেক পৈত্রিক সূত্রে আমি ৫০ শতক জমি পেয়েছি। উক্ত জমি থেকে আমার মা স্বপ্না সরকারের নামে ৫ শতক জমি জীবনস্বত্ত্ব, দুই বোন মাধবী লতা সরকার ও প্রিয়াংকা সরকারকে ৫ শতক করে মোট ১০ শতক জমি হেবানামা করে দিয়েছি। তারপরও আমার দুই বোন মিলে মাকে প্ররোচিত করে আমার গোটা সম্পত্তি নিজেদের নামে করিয়ে নিতে ষড়যন্ত্র ও আমাকে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। যেকারনে আমি দীর্ঘদিন কুলিয়াস্থ বাড়ী ছেড়ে দেবহাটা সদরে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে আসছি। নিজের সাংসারে টানাপোড়েন থাকা স্বত্ত্বেও আমি প্রতি মাসে ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে আমার মাকে খরচের টাকা পাঠিয়ে আসছি (ব্যাংক রশিদ সংরক্ষিত)। আমার বিভিন্ন স্থানে কয়েক লক্ষ টাকা ঋন থাকায় তা পরিশোধের জন্য আমার নামীয় জমি থেকে ৩ শতক জমি বিক্রির জন্য সম্প্রতি মায়ের অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু বোনদের প্ররোচনায় পড়ে মা অনুমতি না দিলে আমি বাধ্য হয়ে ঋন পরিশোধের জন্য সম্প্রতি ৩ শতক জমি বিক্রি করি। বিক্রি পরবর্তী ক্রেতাকে জমি বুঝিয়ে দিতে গেল আমার মা বাঁধা দেন। কিন্তু আমার কোন উপায় না থাকায় জমি বুঝিয়ে দেয়ার সময় আমি কোন প্রকার বাক বিতন্ডতা না করে বরং মায়ের কাছ থেকে বার বার দূরে সরে যাই।
ভিডিও ফুটেজের তথ্য মতে, জমি বুঝিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকার কিছুক্ষনের মধ্যে মা আকর্ষিক অচেতন হয়ে পড়ে যায়। তারপর আমার দুই বোন মাধবী লতা সরকার ও প্রিয়াংকা সরকার নাটকীয় ভাবে কৌশলে মাকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিসহ মাকে প্ররোচিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দেবহাটা থানায় আমার বিরুদ্ধে মাকে মারপিটের মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে একইভাবে সংবাদকর্মীদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পরও আমি মাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি এবং মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। অথচ বোনদের ষড়যন্ত্র অনুযায়ী আমার মা আমার নামীয় সকল সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। মায়ের প্রতি ভালবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে আমি আইনের প্রতি আস্থাশীল হয়ে প্রকাশিত সংবাদটির প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রতিবাদন্তে-
জগদীশ সরকার
পিং-মৃত বিমল সরকার
পূর্ব কুলিয়া, দেবহাটা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর