আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এসএসিপি (বারি অঙ্গ) এর ফসল সংগ্রহোত্তর কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি::
সাতক্ষীরায় এসএসিপি(বারি অঙ্গ) এর ফসল সংগ্রহোত্তর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার অন্য নাম উপকূলের কৃষি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সংগ্রামী জীবনের মতো এখানকার কৃষি ও কৃষকের জীবনও সংগ্রামমুখর। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ও সেচের পানির দুষ্প্রাপ্যতার মধ্যেও লবণাক্ত মাটির বৃক চিরে এখনকার কৃষকরা ফলায় ফসল নামক রতœ। কৃষকের ঘাম, শ্রম আর গবেষণার নবনব প্রযুক্তির যোগ্য প্রাপ্তি যতেœর এই রতœ। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে যখন কৃষক তাদের এই উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মুল্য পায় না তখন তাদের চোখে নেমে আসে হতাশার ছায়া। মৌসুমের প্রথম দিকের এই সব উচ্চ মুল্যের ফসল সে সময় হয়ে দাড়ায় নি¤œমুল্যের ফসল। এ ফসল গুলোর মধ্যে রয়েছে-টমেটো, বেগুন, সীম, লাউ ইত্যাদি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে নি¤œ মুল্যের এই ফসলগুলিতে মুল্য সংযোজন করা গেলে এ গুলিই হতে পারে উচ্চমুল্যের ফসল। আর এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে (১৫ই মার্চ) এসএসিপি (বারি অঙ্গ) এর অর্থায়নে ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, সাতক্ষীরার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হলো ‘দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চমুল্য ফসলের সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালা। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ জিএমএ গফুর, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চল, খুলনা। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকেরা প্রতিকূল পরিবেশে ফসল উৎপাদন করলেও অনেকসময় ফসলের সঠিক দাম পায় না। এক্ষেত্রে ফসলের সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা পঁচনশীল ফসল প্রক্রিয়াজাত করে পরবর্তীতে বাজারজাত করে তাদের উপার্জন বাড়াতে পারে। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মো: আইউব আলী, প্রকল্প পরিচালক, এসএসিপি; ড. অপূর্ব কান্তি চৌধুরী, কম্পোনেন্ট কো-অর্ডিনেটর, এসএসিপি (বারি অঙ্গ) ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বীজ প্রযুক্তি বিভাগ, বিএআরআই, গাজীপুর। ড. অপূর্ব তার বক্তৃতায় বলেন, ফসলের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা ও পরিবহনে যথেষ্ট যতœশীল না হলে পণ্য দ্রুত পঁচে যায় এবং খাওয়ার ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এর ফলে উৎপাদনকারীরা যেমন পণ্যের ন্যায্য মুল্য পায় না তেমনি ভোক্তরাও ভালো মানের পণ্য থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি আরো বলেন, পণ্যের সঠিক সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা শুধু যে এর গুণগতমানকেই উন্নত করে তা নয়, সেই সাথে মুল্যও সংযোজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. মো মতিয়ার রহমান, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বিএআররআই, যশোর। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. মো: মোশাররফ হোসেন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (চ:দা:), কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, সাতক্ষীরা। কর্মশালায় বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপননের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলা গ্রামের কৃষক-কৃষানীদের টমেটোর সস ও পেয়ারার জেলি তৈরির প্রক্রিয়া হাতেকলমে দেখানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর