আজ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আজ পহেলা বৈশাখ: বর্ষবরণ হচ্ছে প্রতীকী

মোঃখলিলুর রহমান::

১৪২৭-এর আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্নার হিসাব চুকিয়ে শুরু নতুন এক পথচলা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সার্বজনীন উৎসবে ঘরে ঘরে মেতে ওঠা বাঙালি গাইবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। বাংলার গ্রাম, শহর, বন্দর, সব জায়গায় আজ দোলা দেবে পহেলা বৈশাখ তবে সেটা একটু অন্যভাবে। পান্তা-ইলিশ খাওয়া, মুড়ি-মুড়কি, মন্ডা-মিঠাই সবই হবে, তবে তা যার যার ঘরে।

আজ যে পহেলা বৈশাখ। বাঙালির জীবনে আজ নতুন বছরের প্রথম দিন, নতুন বারতা। আজকের সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে সূচনা হল বাংলা ১৪২৮ সালের। তবে আজকের এই বৈশাখ বাঙালির জীবনের যেকোনো বৈশাখের চেয়ে আলাদা। শতাব্দীর ভয়াবহ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি করোনা মহামারীর কারণে দুর্যোগের সময় আমাদের জীবন অবরুদ্ধ। ঘরে বসেই দেশের মানুষ মোকাবেলা করছে এই মহামারীর। আজ পহেলা বৈশাখের বাংলা ঢোলের বাজনা বাজবে বাঙালির মনে মনে। প্রাণে প্রাণ মিলবে রাস্তা বা খোলা ময়দানে নয়, যার যার বাসায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ম্যাসেঞ্জারে। আজ পহেলা বৈশাখের উৎসব হবে বাংলার ঘরে ঘরে, নিজের মতো করে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার বাংলা বর্ষবরণ হবে প্রতীকী, আয়োজন নেই সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর। রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও।

গতবছর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ভার্চূয়ালি পহেলা বৈশাখকে উদযাপন করলেও এবার তাও করা হচ্ছে না। শিল্পকলা একাডেমিতে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা থাকলেও এ দিনটিকে কেন্দ্র করে যারা মূল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকেন তাদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে কোন ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে না।

এদিকে, ছায়ানটের শিল্পীবৃন্দ রমনার বটমূলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে থাকে। করোনা ভাইরাসের দূর্যোগের কারণে এবার কোন আয়োজন করা থেকে বিরত থাকছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ টেলিভিশনও (বিটিভি) সরাসরি অনুষ্ঠান করছে না। তবে, ছায়ানটের আর্কাইভ থেকে বাংলা বর্ষবরণের গান ও ফুটেজ নিয়ে সকাল আটটায় এ সংক্রান্ত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এবং লকডাউন বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পহেলা বৈশাখ (বাংলা নববর্ষ) বরণ উপলক্ষে সশরীরে কোন মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হচ্ছে না। তবে, প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রদর্শন ও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হচ্ছে না কোন ধরনের মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণজমায়েত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর