আজ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আশাশুনিতে ওসি’র ছত্রছায়ায় থানা চত্বরে বক ও পানকৌড়ি পাখির মেলা

বি এম আলাউদ্দীন আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনি থানা চত্বর ও বাজার সড়ক দিয়ে হেঁটে যেতে হাজারো পাখির কলকাকলি যেকোনো পথচারীর মনোযোগ কাড়বে। সূর্য ওঠার আগে থেকে শুরু হওয়া এই পাখির কিচিরমিচির সন্ধ্যায় আরো বেড়ে যায়। থানার আশপাশে দাঁড়িয়েই একটু উপরে তাকালেই চোখে পড়বে থানা চত্বরে ভিতর বেড়ে ওঠা অনেকগুলো মেহগনি গাছ ও তাল গাছ জুড়ে বসেছে হাজারো বক ও পানকৌড়ি পাখির মেলা।

প্রথম দেখায় মনে হবে সাদা কাশফুল যেন ছড়িযে ছিটিয়ে আছে পুরো গাছটি জুড়ে। এ ছাড়া আশপাশের আরো কয়েকটি গাছের ডালে রয়েছে বক ও পানকৌড়ি পাখি যাহা খূবই দৃষ্টিনন্দন এবং যেটা দেখে মানুষের মাঝে মুগ্ধতা ছড়ায়। প্রতিবছর এই মৌসুম এলেই এই থানায় বসে এমনি বক ও পানকৌড়ি পাখির মেলা। কিন্তু এই বছর আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ গোলাম কবির এর সতর্ক নজরদারী আর তার ভালোবাসায় হাজার হাজারেরও বেশী বক পাখি দীর্ঘ সময় ধরে টিকে রয়েছে এই প্রজাতির বক ও পানকৌড়ির এমন বর্ণাঢ্য উপস্থিতি।

প্রতি বছর চৈত্র মাসের দিকে ঝাঁক বেঁধে পাখিরা এসে অবস্থান নেয় কিছুদিন পর আবার চলেও যায় (ওসি) গোলাম কবির যোগদান করার পর যেমন বেশি দেখা গেছে পাখির ঝাঁক তেমন বেশিদিন ধরে অবস্থান করতেও দেখা গেছে তাদের। ভরা জোসনা রাতে গাছের দিকে তাকালে মনে হয় গাছ জুড়ে যেন থোকা থোকা সাদা কাশফুল ফুটে আছে। এমন সৌন্দর্য দেখে বুক ভরে যায়, পাখি শিকারের কথা কারোর মনেও আসে না। অনেক সময় এসব পাখিরা থানার অফিসার দের কাছাকাছি চলে আসে মনে হয় যেন ওরা তাদের কত চেনা।

এ ব্যাপারে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সচেতন মহলের বক্তব্য (ওসি) গোলাম কবির যোগদানের পর থেকে আশাশুনি উপজেলার যেমন রেখেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নজরদারি ঠিক তেমন ভাবে তীক্ষ্ণ নজরদারিতে রেখেছেন এই বক ও পানকৌড়ি পাখিগুলোকে। আর কোনোভাবেই যেন পাখি শিকার করা না হয় সে ব্যাপারেও থানার অফিসার বৃন্দ সবাই সজাগ।

দেখা গেছে সারাদিন এই গাছগুলোতে শুধু পাখির ছানারাই অবস্থান করে। আর দিনের মাঝে মাঝে মা পাখিরা মাছ শিকার করে ঠোঁটে করে তার ছানাদের খাওয়াতে আসে। মূলত সন্ধ্যার সময় পাখিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তখন পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে আরো বেশি মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো থানা এলাকা। সাদা বক ও পানকৌড়ির উপস্থিতিতে গাছের পাতা প্রায় চোখেই পড়ে না।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ গোলাম কবির জানান, আমি থানায় যোগদান করার পরে দেখেছি অল্প কিছু বক ও পানকৌড়ি থানা চত্বরের ভিতরে হেমগনিগাছে এসে বাসা বাঁধতে। এবং ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটিয়ে বাড়তে থাকে বক ও পানকৌড়ির সংখ্যা। এখন হাজারেরও বেশি পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, মাঝেমধ্যে ছোট ছোট বাচ্চাগুলো গাছ থেকে নিচে পড়ে যায় তখন সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাগুলোকে পুনরায় আবার গাছের বাসায় উঠিয়ে দেওয়া হয়। উপজেলার মানুষের যেমন নিজেই পাহারা দিয়ে রেখেছি ঠিক তেমন পাখিগুলোকেও নজরদারিতে রাখছি যেন তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর