আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাঁধ ভাঙা আর্তনাদ

রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল

আধুনিক বিশ্ব এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে, আমরাও হয়েছি সারথি। এটমিক বোমা বানাতে না পারলে জিডিপির অনুপাতে পিছিয়ে নেই আমরা। গড় আয়ে বাঘা বাঘা কয়েটি দেশকে টপকাতে পেরেছি ইতোমধ্যে। মহামারী পরিস্থিতিতেও পর্যাপ্ত রেমিট্যান্সও আসছে আমাদের।
রাস্তা-ঘাট,ব্রিজ কালভার্টের উন্নয়নও চোখে পড়ার মত। সব মিলিয়ে মহাবিশ্বে মহা ক্রান্তিলগ্নে ভালোই আছি আমরা। তাহলে শিরোনাম কেন হলো “বাঁধ ভাঙা আর্তনাদ”?
নদীর বাঁধ ভেঙে গৃহহীন হয়ে বাঁধ ভাঙা আর্তনাদ চলছে দক্ষিণ জনপদের মানুষের মনে। বাঁধও ভেঙেছে পাছে ভেঙেছে মানুষের অন্তক্রন। আজ মান্না দের সেই গানটি বড্ড মনে পড়ছে – ক ফোঁটা চোখের জল ফেলেছো যে তুমি ভালোবাসবে……………কটা রাত কাটিয়েছো জেগে,স্বপ্নের মিথ্যে আবেগ, কি এমন দুঃখকে সয়েছো যে তুমি ভালোবাসবে।
নিজের দৃষ্টি সীমানায় বাপ-দাদার ভিটামাটি নদীর গর্ভে বিলীন হয় যার সেইতো চোখের জল ফেলে। গোলাভরা ধান,গোয়াল ভরা গরু,পুকুর ভরা মাছ আর শস্য ভরা ক্ষেত নদীর আগ্রসী থাবায় বিলীন হওয়া মানুষ গুলো বছরের পর বছর গৃহহীন হয়ে পরিবারের কনিষ্ঠ শিশুটিকে নিয়ে বিনিদ্র রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়ে যাচ্ছে তারাই বোঝে জীবনের মানে টা কি? সিডর থেকে আইলা, নার্গিস থেকে ফনি, আম্পান থেকে ইয়াস একই সুতোয় বাঁধা এই জনপদের জীবন।
প্রতিটি ঝড়ের পর আসে সংস্কারের বাজেট! কিন্তু কেমন সংস্কার হয়? সংস্কারের হাল যদি হয় বেহুলা-লক্ষীন্দারের সেই বাসর ঘরের মতো তাহলে আদৌও পাল্টাবে কি আমাদের এই চিত্র?
ইয়াসের তান্ডব লীলা ভারতের উপর দিয়ে চলে গেছে, আমরা পেয়েছি শুধুই রেশ তাতেই দক্ষিণ জনপদে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে কোটির উপর মানুষ পানি বন্দী,-গৃহহীন।
ইয়াসের ক্ষতি সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত খবরের শিরোনাম গুলোই তার চাক্ষুষ প্রমান। আসুন চোখ বুলিয়ে আসি কিছু গণমাধ্যমে “জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় ৯ জেলার ২৭ উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত”
” ঘূর্ণিঝড়ের আগেই জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত” ” ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে শ্যামনগরের উপকূলীয় বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ৫ ইউনিয়ন প্লাবিত” ” ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে শ্যামনগরের উপকূলীয় বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ৫ ইউনিয়ন প্লাবিত”। এমনি ভাবে করুন আকুতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে দক্ষিণ জনপদ ঘিরে।
সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকায় আজ ২৭ এপ্রিল শিরোনাম করেছে ” দূর্ণীতিপরায়ন নাকি উপকূলীয় জনপদকে নিশ্চিহৃ করার প্রয়াস? যে কথা আমি আগেই বলেছি বাঁধ যদি হয় বেহুলা-লক্ষীন্দের বাসর ঘর সম তাহলে অবস্থাতো এমনি হবে। অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার বাহাদুরকে দোষারোপ করা খুব একটা কারন আমার জানা নেই কারন প্রতি বছরই যে বাজেট ওয়াপদা বাঁধ সংস্কারের জন্য দেয়া হয় তা যথেষ্ট বলে এই বিষয়ে অভিজ্ঞদের অভিমত। কিন্তু বাজেটের টাকায় যারা কাজ করেন তাদের কাজে যদি থাকে শুভংকরের ফাঁকি তাহলে যা হওয়ার কথা তাইতো হবে।
যবনিকাতে ভদ্রপল্লীতে বসবাসরত ঈশ্বর তুল্য মানুষ গুলোর প্রতি এটুকুই আকুতি রেখে বলি – আমরা ত্রান চাই না,আমরা হাত পেতে অনুদান নিতে চাই না,মহাবিশ্বের আধুনিক সভ্যতার যে রথে আমাদের দেশকে আপনারা সারথি করছেন সেই রথের লম্বা রশি আমাদের একটু টেনে ধরার সুযোগ দিন। আমরা নিজের বাপ-দাদার ভিটায় থেকে গায়ের ঘাম জল করে নিজেদের খাদ্য বস্ত্র নিজেরাই জোগাড় করার পাশাপাশি দেশের রাজস্ব খাতে আমরাও পূর্বের মত অংশ নিতে চাই। সেকারনে আমাদের এই জনপদে স্থায়ী বাঁধ নির্মানের জন্য সঠিক বাজেট দিয়ে,সৎ প্রতিষ্ঠানের হাত দিয়ে কাজ করিয়ে আমাদের বাঁধ ভাঙা আর্তনাদ থেকে রক্ষা করুন।

লেখকঃ গণমাধ্যম কর্মী ও কলাম লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর