আজ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সাতক্ষীরার খানপুরে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতি সাধন

মিছিল ডেস্কঃ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের শাহিনের ছেলে ফিরোজের ঘেরে বিষ প্রয়োগ। কে বা কারা শনিবার এই বিষ প্রয়োগ করে সাত লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। এ বিষয়ে ফিরোজের স্ত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদন কে বলেন, ২৯/০৫/২১ শনিবার। ভোর ৫.৩৬ মিনিট।তখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আমি।পাশের মানুষটা কখন যে উঠে নিজেদের সকল স্বপ্নের বীজ যেখানে পোতা সেখানে ছুটেছে জানিই না। ফোনের রিংটোন বাজলো।ঘুম ভাঙ্গলো।দেখি আমার স্বামীর কল। রিসিপ করে কানে ধরতেই শুনি মুক্তা আমাদের সব শেষ।মাঠে আসো। আমাদের ঘেরে কেউ বিষ দিয়েছে।আমি নির্বাক।ভাবতেও পারিনি এমনো সকাল আমার জীবনে আসতে পারে।ছুটে গেলাম মাঠে।গিয়ে দেখি আমাদের স্বপ্নের ইঞ্চি পরিমাণ জায়গাও ছাড় দেয়নি ভাঙতে। তখন ভোর ৫.৪৬ মিনিট। ফোনে খুজলাম ওসির নাম্বার।পেলাম না।তারপর কল দিলাম সুমন আংকেলের কাছে (সাংবাদিক)। আংকেল তখন শ্যামনগর।আংকেল কে সব ঘটনা খুলে বললাম।তারপর অনুরোধ করলামএকটা সাংবাদিক যেনো আমার এখানে পাঠিয়ে দেয়।আংকেল বললো এখানে ফটোসাংবাদিকের গুরুত্ব বেশি তাই রাজাকে কল দিতে।তারপর আমি আংকেলের কাছে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসির নাম্বার চাইলাম। আংকেল নাম্বারটা দিলো। আমি ওসির কাছে কল দিলাম ২ বার। ওসি রিসিভ করলো না।তারপর কল দিলাম ৯৯৯। সাথে সাথে উত্তর।আমি বললাম দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।আমার সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।আমার মাছে ৩ টা ঘেরেই কেউ বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে। তখন তিনি বললেন আমি কোন জেলার কোন থানাতে আছি সেটা জানাতে।তারপর আমাকে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার ওসির সাথে আমাকে কথা বলালেন।আমি স্যারকে(ওসি) আমার ঘটনাগুলো সব জানাতেই তিনি বললেন থানায় যেয়ে এজাহার দিতে। তারপর আমি কল দিলাম আমার বন্ধু ফটোসাংবাদিক রাহাত রাজার কাছে।তাকে সবটা বলতেই সে বললো তার আসার কোনো উপায় নাই।সে আমের ব্যবসা করছে তাই আমের বাগানে যেতে হবে ঢাকাতে আম পাঠাতে হবে।তারপর কল দিলাম আবুল কালাম আজাদ (সাংবাদিক) আংকেলের কাছে। কল দিতেই উনি বললেন মুক্তা ভেঙে পড়োনা। একটু বেলা হলেই আমি কাউকে পাঠাচ্ছি। তারপর আমি আমার স্বামি, শশুর আর শাশুড়ী কে বললাম থানায় যাওয়ার কথা। আমার শশুর তখন আমাকে খুব কর্কষ ভাষায় থানায় না যাওয়ার কথা বললেন। আমি শুনলাম না।ছুটলাম থানাতে।আমার স্বামী কে বললাম তুমি এদিকটা দেখো। তখন ৬.২৪ মিনিট।আমার ভাইকে কল দিলাম ভাইয়া আমার সব শেষ তুই তাড়াতাড়ি আয় আমাকে থানায় নিয়ে চল। তারপর খালিদকে (বন্ধু) ফোন দিলাম।সেও ঘুমে।খালিদ বললো থানায় আসছি।থানায় যখন ঢুকলাম তখনো সকাল ৭টা বাজেনি।ডিউটি অফিসারের সাথে কিছুক্ষণ কথা হলো।তারপর ডিউটি অফিসার আমাকে এস আই মানিক ভাইয়ের নাম্বার দিয়ে কথা বলতে বললেন। যখন আমি মানিক ভাইয়াকে কল দিলাম তখন মানিক ভাইয়া ঘুমে।কল পাওয়ার সাথে সাথেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানিক ভাই থানাতে আসলেন।খালিদও উপস্থিত।তারপর সকাল ৭.৩০ এর মধ্যে আমরা ( এস আই মানিক ও তার সহযোগী, খালিদ,ভাইয়া আর আমি) যথা স্থানে হাজির হলাম। মানিক ভাই সবকিছু দেখে শুনে কিছু মাছ,ঘেরের মাটি আর পানি নিয়ে চলে গেলেন।বললেন কোনো অভিযোগ নয় সরাসরি মামলা করবেন।এতো বড় ক্ষতি কোন মানুষ মানুষ কে কি করে করে।আমি বললাম আমার স্বামী তো পানি মাছধরছে।তিনি বললেন যতোটা পারেন মাছ ধরে বিক্রি করার চেষ্টা করেন। দেখেন কিছু যদি বাঁচে। ৪-৫ লাখ (৭০মণ সাদা মাছ বড় ছোট মিলিয়ে,১হাজার পিচ ছাটি মাছ) টাকার মাছ।বিক্রি হলো মাত্র ৩৮হাজার টাকা। তারপর আবার থানার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম আমার দুই ভাই,খালিদ, ফিরোজ(আমার স্বামী) আর আমি।যাওয়ার পথে পত্রদূত অফিসে কালাম আংকেলের সাথে দেখা করে পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিও দিয়ে চলে গেলাম থানাতে।প্রথমে ভেবেছিলাম থানাতে যেয়ে বুঝি অবহেলা বেশি পাবো কিন্তু না।সেটা আর হলো না। থানার ওসি এতোটায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলো যে আমরা সবাই খুব আস্বস্ত হলাম। তারপর মামলা সন্দেহভাজনের তালিকায় মামলা রেকড হয়ে গেলো।শুরু হলো তদন্ত।
সন্দেহের কারণ, ২৮/০৫/২১ বিকাল ৫টার পর ঘেরে যেয়ে দেখি দুই তিনজন ব্যক্তি আমার ঘেরের পানিতে নেমে মাছ ধরছে।তাদের কে মাছ ধরতে নিষেধ করায় তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়।তারা চলে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায় মাছ মারা যাওযার। তার পর দিন ভোরেই এই অবস্থা।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ও এস আই মানিক আপনাদের জন্য পুলিশের প্রতি আবারো শ্রদ্ধা,বিশ্বাস, আস্থা ফিরে পেলাম। আশা রাখি এই শ্রদ্ধা,বিশ্বাস, আস্থা অটুট থাকবে আপনাদের কাজে।দয়া করে যে বা যারা আমাদের এই চরম ক্ষতি করেছে তাদেরকে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।আমাদের মতো আর কারো স্বপ্ন যেনো আর মাঝ পথে পুড়ে ছাই হয়ে না যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর