আজ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তালা বাজার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত, পাঠদান ব্যাহত!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার তালার ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালা বাজার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানাবিধ সমস্যার কারণে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ৪ শতাধিক ছাত্রছাত্রী এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করলেও পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ না থাকায় দক্ষ শিক্ষক মণ্ডলী সঠিক ভাবে পাঠদান করাতে পারছেন না বলে জানা গেছে।সূত্র জানায়, ১৯৫২ সালে এলাকার প্রভাবশালী মৃত্য মীর আব্দুল মালেক (ছুটুমীর) প্রথিতযশা শিক্ষানুরাগীদের সাথে নিয়ে নিজেদের জায়গায় এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।এরপর থেকে সুনামের সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রছাত্রী প্রথমিক বৃত্তি লাভ করে এই বিদ্যালয় থেকে। এ বিদ্যালয়টি উপজেলা, জেলা, বিভাগ এমনকি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করছে বারংবার। সরকারী ভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ শিবরাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। এই বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন ২০১৮ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে ভিয়েনামে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করনে।লেখাপড়ার পাশাপাশি এ বিদ্যালয়টি সংগীতেও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে জাতীয় পুরস্কার। জাতীয় দিবসে বাবংবার উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এ বিদ্যালয়টি। উপজেলা রিসোর্স সেণ্টারটিও এই বিদ্যালয় সংলগ্ন অবস্থিত।শিক্ষা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অবদান রাখলেও অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি বিদ্যালয়টিতে। আছে শিক্ষক স্বল্পতা। শ্রেণী কক্ষের স্বপ্লতা তো আছে-ই। নেই অভিভাবক সমাবেশ করার মতো কোনো হলরুম। স্কুল মাঠটি অপেক্ষাকৃত নীচু হওয়ায় বর্ষা মৌশুমে মাঠে পানি জমে থাকে। ছাত্রছাত্রীদের চলাফেরায় ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নেই উপযুক্ত খেলার মাঠ, ক্রীড়া সামগ্রী। চিত্তবিনোদনের জন্য নেই পর্যাপ্ত উপকরণ। ফলে লেখাপড়ায় যেমন হচ্ছে ব্যাহত তেমনি লেখাধূলা ও সাংস্কৃতিতে পিছিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন।জানতে চাইলে এ বিদ্যালয়ের সভাপতি সাংবাদিক মীর জাকির হোসেন বলেন, এই বিদ্যালয়টি আমাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে ও আমার পিতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জেল-জুলুম ও সহ্য করেন তিনি। ঐতিহ্যবাহি এই বিদ্যালয়ে ৪ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী লেখাপাড়া করলেও পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ না থাকার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।তিনি বলেন, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য একটি ভবন খুবই প্রয়োজন। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপাড়ার সুষ্ঠ পরিবেশ ফেরাতে একটি ভবন নির্মান ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) সাংসদ সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর