আজ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে নবজাতক শিশু ব্রীজ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নে একটি নবজাতক কন্যা শিশুকে ব্রিজের উপর থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ভোররাতের কোন এক সময়ে ওই ইউনিয়নের গুনকরকাটি ব্রিজের উপর থেকে বেতনা নদীর চরে ফেলে দেয়া হয় নবজাতকটিকে। পরে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি সাথে সাথে ঘটনা স্থলে ছুটে যান। ঘটনা স্থলে গিয়ে নবজাতক শিশু টিকে কোলে তুলে নিয়ে দেখেন তখন ও শিশু টি জীবিত আছে। তিনি আর বিলম্ব না নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে মোটরসাইকেল যোগে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত ডাক্তার নার্সরা সাধ্য মত চেষ্টা করে ও তাকে বাঁচাতে পারিনি। বেলা ১২টার দিকে শিশুটি মারা যায়।
কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত আল হারুন জানান, ঘটনাটি জানার পরই নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনেক উঁচু থেকে ফেলে দেয়ায় মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয় শিশুটি। আমি দায়িত্ব নিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। চিকিৎসারত অবস্থায় শিশু টি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মারা যায়। আমি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার মহাদয় ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটির পোস্টমর্টেম ও ডিএনএর ব্যবস্থা করে তার লাশটা কে আমার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করি। দাফন সম্পন্ন করার আগে আমি ও আমার পরিবার মিলে শিশু টির না রাখি ফতেমা খাতুন। আগামী শুক্রবার তার দোয়া অনুষ্ঠান এবং ঈদুল আজহার দিন তার আকিকা সম্পন্ন করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, এই নিষ্পাপ শিশু টাকে যে বা যারা হত্যা করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য অজ্ঞাত নামা আসামি করে আমি নিজে বাদি হয়ে গত ১৪ জুলাই২০২১ তারিখে
আশাশুনি থানা একটা লিখিত এজাহার দায়ের করেছি। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির চেয়ারম্যানের করা এজাহারের ভিত্তিতে অজ্ঞাত নামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটা হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকারী যেই হোক তাদের কে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর