আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভোমরা কাষ্টমসের এন্ট্রি শাখা ঘুষ কেলেঙ্কারীর আবর্তে নিমজ্জিত

এম জিয়াউল ইসলাম জিয়া, ভোমরা(সাতক্ষীরা): দূর্ণীতির প্রভাব বিস্তারে ঘুষ বাণিজ্য কেলেঙ্কারীর আবর্তে নিমজ্জিত ভোমরা কাষ্টমসের এন্ট্রি শাখা। ঘুষ বাণিজ্য দৌরাত্যের প্রভাবে হয়রানির শিকার সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীরা। কাষ্টমসের এই এন্ট্রি শাখার দুজন উচ্চমান সহকারী হুমায়ুন ও রেদওয়ান এন্ট্রি শাখাকে দূর্ণীতির আখড়ায় পরিণত করেছে, এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীরা। দূর্ণীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের কালো থাবায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে এন্ট্রি শাখার প্রতিটি খাত। নানা সমস্যায় জর্জরিত কাষ্টমসের অন্যতম প্রধান সমস্যা ঘুষ বাণিজ্য। এন্ট্রি শাখায় বাণিজ্যিক পেপার এন্ট্রি ব্যবস্থা দূর্ণীতির ঘূনে আক্রান্ত হয়ে দিনে দিনে ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে । এ এন্ট্রি শাখার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুষের কালো থাবা । ঘুষ আর দূর্ণীতির অক্টোপাসের মতো এন্ট্রি শাখাকে জড়িয়ে ধরায় সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীদের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী সিএন্ডএফ কর্মচারীরা অভিযোগ করে জানান, এন্ট্রি শাখার উচ্চমান সহকারী হুমায়ুন আর রেদওয়ানের দূর্ণীতিতে ঘুষ বাণিজ্যে ছেঁেয় গেছে। ঘুষ ব্যতীত এন্ট্রি শাখার কোথাও কোনো কর্মকান্ড সম্পন্ন হয় না। ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রাখা হয় ঘুষের আশায়। এ শাখার প্রতিটি স্তরে ছোট কর্তা থেকে বড় কর্তা পর্যন্ত ঘুষরোগে আক্রান্ত। যেনো ঘুষে তাদের অরুচি হয় না। ঘুষ ব্যতীত কাজ করতে তাদের রুচিতে বাধে। যে কাজের জন্য সরকার তাদের বেতন দেয় সে কাজ তারা ঘুষ ছাড়া করে না। অনেকের আবার সরাসরি ঘুষ চাইতে বিবেকে বাধে। তাই তারা বিভিন্ন উপায়ে ঘুষ গ্রহণের কৌশল অবলম্বন করে। কার্যকাল উত্তীর্ণ হওয়া এন্ট্রি শাখার এই দুই জন উচ্চমান সহকারীর প্রত্যক্ষ মদদে চলছে সিএন্ডএফ এজেন্টদের নিকট থেকে অবাধ ঘুষ বাণিজ্য। দূর্ণীতিগ্রস্থ এ শাখায় রেজিস্টার্ড বহিতে আমদানী পণ্যের প্রতি বিল অব এন্ট্রি পেপার বাবদ ৩ শ টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়। ভারত থেকে আমদানীকৃত ফলের পেপার প্রতি ৫শ টাকা, অন্যান্য আমদানীযোগ্য পণ্যের পেপার প্রতি ৩শ টাকা এবং রপ্তানীযোগ্য পেপার প্রতি ২শ টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়। রেজিস্টার্ড বহিতে এন্ট্রি বাবদ নির্ধারিত উৎকোচ দেওয়া না হলে পেপার ছাড়করনে ভোগান্তির শিকার হতে হয় সিএন্ডএফ এজেন্টদের। এ ব্যাপারে এন্ট্রি শাখার উচ্চমান সহকারী হুমায়ুন ও রেদওয়ানের নিকট পেপার প্রতি ঘুষ বাণিজ্য ও সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীদের পেপার (এন্ট্রি) ছাড়করনে হয়রানি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা একই ভাষায় জানান, মাঝে মধ্যে সার্ভেয়ার সমস্যার কারণে পেপার এন্ট্রি করতে বিলম্ব হয়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পেপার আটকে রাখা হয় না। এদিকে ঘুষবাণিজ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর