আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শ্যামা মেয়ে

বৌদি মনি,

কেমন আছো,কত দিন দেখা হয়নি তোমার হাসি মাখা মুখ খানি। ছুটি পেলেই আসবো আসবো করে বহুদিন পার করে ফেলেছি যথা কারনে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এত কিছু পরও আমার বিশ্বাস আমার এই পত্র তোমার হাতে পড়া মাত্রই তোমার হাস্ব্যোজ্বল মুখখানি আমার পত্রের উপর প্রতিবিম্বিত হবে। তোমরা ভালো আছো নিশ্চয়। 

জানো বৌদি মনি,

তুমি জানতে চাইবে না আমি কেমন আছি? জানি চাইবেতো বটেই তাই বলছি শোন,শহর থেকে বন্দর, গ্রাম থেকে রাজপথ জীবন যুদ্ধে ঘুরে ফিরেছি ।  সমাজ সংসারের খবর টিভিতে তুলে ধরার কাজ করে যাচ্ছি। জীবন চলছে অনেকটাই জীবনের নিয়মে। তবে হ্যাঁ তোমার জন্য একটা দিদি ভাই আনার কথা তুমি সেবার খুব করে বলেছিলে তা কিন্তু আমি পারিনি আর হয়তো পেরেও উঠবো না। কিন্তু কেন এমন প্রশ্ন তুমি করবে নিশ্চয়?  

লক্ষী বৌদি ভাই আমার,

ভালো লাগা বা ভালোবাসা এসবের দেখা মিলেছে হরহামেশাই। দৃষ্টিতে দৃষ্টি বন্ধন,একটু পিছু ফিরে দেখা,  টুকটাক এসব হয়নি তা ঠিক বলা যাবে না। কিন্তু নিজের মতো করে কাউকে পাওয়া হয়নি তোমার এই ঠাকুরপোর। তবে সাত পাকে ঘুরে ঘাট বাধা আর হবেও না।  কেন হচ্ছে না? কেন হলো না? কেন হবেনা? বন্ধুদের মতো অজস্র প্রশ্নবাণে তুমিও জর্জারিত করবে আমাকে এ আর নতুন কি?

জানো বৌদি মনি, 

আমি যে তোমার মতো মনের মাধুরী মেশানো মানুষকে খুজে ফিরেছি, তা সে কথা বলার মত কাউকে খুজে পাইনি তা ঠিক নয়। তোমার মনে আছে তুমি আমাকে বারবার শুধাতে কেমন প্রিয়া চাই আমার। সেদিন আমি তোমায় কি বলেছিলাম মনে আছে তোমার? আমি সেদিন চাপা হাসি হেসে বলেছিলাম তেমন কিছু না- বনলতা সেনের মত চুল, আর সূচিত সেনের মতো আড় চোখা চাহনি হলেই চলবে। আমার কথা থামতেই তুমি বলেছিলে এ সম্ভব না, তুমি খানিকটা রসিকতার সুরে আমায় সেদিন বলেছিলে সূচিত্রা আর বনলতায় মিশ্রিত রমনী পাবেও না আর সাত পাকে বাঁধাও আর পড়তে পারবে না। 

বৌদি ভাই, 

তুমি আর তোমার রসিকতা হেরে গেছে। জিতে গেছি আমি, কিন্ত জয়ের মুকুট মাথায় রাখতে পারিনি। তা শুধু রেখে দিলাম অসমাপ্ত ক্যানভাসে। কেমন করে তা বোধ করি জানতে চাইছো? তবে শোন,গত বছর পূজোর ছুটিতে তোমাদের কাছে আসবো বলে প্রচেষ্টার কমতি ছিল না। অফিস থেকে হঠাৎ করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পুজোর খবরগুলো তুলে ধরার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হল। কি আর করা, ছুটি বাতিল প্রতিদিন ইভেন্ট করার জন্য সন্ধ্যার আগেই মন্দির চত্বরে চুপচাপ বসে থাকা আর নিউজের রসদ জোগাড় করা এই হলো কাজ। বিকেল গড়াতেই প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে এখানে গ্রামের পূজোর চেয়ে ঢের গুন মানুষ আসে এখানে। চেনা মানুষের চেয়ে অচেনাই বেশি। তাই ঠিক মন বসে না। ঢাকের তালে তালে দেবীর আরাধনা সন্ধ্যা হতেই জমে ওঠে, এত মানুষের ভিড়ে নিজেকে মাঝে মাঝে হারিয়ে ফেলি। হঠাৎ মহা অষ্টমীর দিন সন্ধ্যার কিছু আগে অদ্ভুত একটি ঘটনা ঘটে গেল, মন্দিরের ঠিক সামনে সমবেত সকলের মাঝে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। আচমকাই আমার চোখ  বিধলো অচেনা এক মানুষের দিকে। বিশ্বাস করো বৌদি ভাই, চুল ছেড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মেয়েটি যাকে দেখেই আমার মনে হল তোমাকে বলা সেই বনলতা সেনের দেখা আমি পেয়েছি, আমি ইচ্ছে করে অনেকটা তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলাম ঢের লোকের মাঝে আমি তাকে দেখেই চলেছি। বারংবার চেষ্টা করেও আমি আমার দৃষ্টি ফেরাতে পারিনি একটানা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার কারণে অনেকেই হয়তো আমাকে ফলো করছিল, বিশ্বাস করো বৌদি, আমি আগে এতটা নির্লজ্জ কখনো হয়নি। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, সেও আড় চোখা হয়ে আমার দিকে বেশ কয়েকবার তাকালো। আড় দৃষ্টিতে তার এ দেখা মনে হল- সূচিত সেনের চোখ দিয়ে সে আমায় দেখছে। কয়েক বার চোখাচোখি হওয়ার পর আমি হতভম্ব হয়ে গেছিলাম। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ভাবছিলাম আমার কি করা উচিত।  তার কাছে গিয়ে পরিচয় নেব নাকি, তাকে আমার পরিচয় দেব, সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে কতক্ষণ সময় পেরিয়ে গেছে আমি নিজেও জানি না। আমার ক্যামেরাম্যানের ধাক্কায় আমার সম্বিত ফিরে এলো। সে আমায় মনে করিয়ে দিল কয়েকজন পূজারীর বক্তব্য নিতে হবে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্য আমি কিছু না ভেবে আমি মাইক্রোফোন নিয়ে চলে গেলাম তার কাছে। আজকের পূজা আর প্রতিমা দর্শন সম্পর্কে তার কাছে প্রশ্ন করতে সে অবলীলায় তার বক্তব্য দিয়ে গেল, কিন্তু বললো তা আমি বলতে পারবো না। আমিতো তার কাজল কালো মায়া হরিণী চোখের দিকে গভীর মমতা দিয়ে তাকিয়ে ছিলাম সম্বিত হীন হয়ে। বক্তব্য শেষে আমাকে তার করা প্রশ্নে আমি স্বাভাবিক হলাম। সুযোগ বুঝে কথায় ফাঁকে আমার একটা ভিজিটিং কার্ড তার হাতে তুলে দিলাম। আশাকরি আমাকে নক করবেন এই কয়েকটি শব্দ ছিল আমার পক্ষে তাকে বলা। আমার কথা শেষ হতেই অনেকটা দৌড়ে বিদায় নিল তার মায়ের ডাকের সাড়া দিতে। নামটা পর্যন্ত জানার সুযোগ হয়নি।

শোন বৌদি মনি,

এরপর কি হলো জানো,জানবে কি করে আমিতো তোমাকে বলিইনি। সেদিন তার চলে যাওয়ার পর আমি অফিস ঘুরে বাসায় ফিরে আসি,সব কিছু স্বাভাবিক ছিল কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল তার কথা এক সেকেন্ডের জন্য আমি ভুলতে পারি,তবে বলে রাখি বৌদি মনি তার সাথে তোমার অনেক মিল বিশেষ করে গায়ের রংয়ে,চুলে আর চোখে। আমার কল্পনার সেই শ্যামা রং। কি নাম? কোথায় থাকে? কি করে? ইত্যাদি ভেবেই চলেছি। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম নিজেও জানি না।

জানো কাকন বৌদি,

তোমার প্রতি ক্ষণে ক্ষণে জন্ম নেওয়া ভালোবাসায় দিব্যি দিয়ে বলছি, ঘুমের মাঝে দেখা স্বপ্নে ওর নাম আমি রেখে ছিলাম শ্যামা মেয়ে। পরের দিন আমি আমার রুটিন বাধা জীবনের জড়িয়ে গেলেও তাকে ভুলতে পারনি। কয়েকদিন মন্দিরে গেলাম। প্রতিমা বিসর্জন হলো তার দেখা আর পেলাম না। আসছে বছর আবার দেখা হবে এমন শান্তনা নিয়ে ফিরে এলাম নিজের জগতে। বিসর্জনের সময় বারবার অবশ্য মনে হচ্ছিল- একপলকে দেখা শ্যামা মেয়ের সব টুকু স্মৃতি আজ বুড়িগঙ্গায় বিসর্জন দিয়ে গেলাম।

জানো বৌদি মনি, 

এভাবে চলতে চলতে একসময় শ্যামা মেয়ের বনলতা সম কেশ আর সূচিত্রা সম আড় দৃষ্টি আমার মস্তিষ্ক থেকে ফিকে হতে শুরু করেছে। হবেই না কেন বলো? সেকি আমায় মনে রেখেছে? আমি একা মনে রেখে কি হবে? বলো ঠিক বলছি কি না? কেউ না চিনুক তুমিতো আমাকে চেনো!

শোন বৌদি মনি, 

এভাবে কাজের মাঝে আমি তাকে ভুলে গেছিলাম, মাসখানেক বা তার কিছু দিন বেশি হবে হয়তে হঠাৎ আমার মুঠোফোনে অচেনা নাম্বার থেকে রিং বেজে উঠলো। আমি তখন ডেস্কে বসে নিউজ নিয়ে ব্যাতি ব্যস্ত বলতে পারো। অন্য মনস্ক অবস্থায় রিসিভ করতেই – মহনীয় কন্ঠে কেমন আছেন। হ্যাঁ ভালো, কে বলছেন?  অপর প্রান্ত থেকে আমি। আমি কে? ঐ যে গেল পূজায় মন্দিরে মনে নেই?এমন প্রশ্ন আমাকে আচমকাই নিয়ে গেল শ্যামা মেয়ের ডায়েরির পাতায়। বিশ্বাস করো বৌদি মনি, আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। বাকরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম কিছু কাল। এপর তার স্বাক্ষাতকার প্রচার হওয়াতে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ ও দীর্ঘ সময় পরে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের কারনে লজ্জিত হওয়া কথাও ব্যক্ত করলেন তিনি। সাথে এককাপ কফির খাওনোর নিমন্ত্রণ জানিয়ে, কবে যাবো কফি খেতে তা জানানোর জন্য অনুরোধ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলো। 

জানো বৌদি মনি,

মোবাইলের কথা শেষ হতেই আমি যেন কোন এক অচেনা আবেগের অতল গহবরে হারিয়ে গিয়েছিলাম। কেমন যেন এক অচেনা অজানা অনুভূতি আমাকে গ্রাস করে ফেললো। মনেরও মন্দিরে কতটুকু সুখ অনুভব করছিলাম তা তুমি ঠাওর করতে পারবে না। বৌদি ভাই তুমিতো বলতে মানুষের মন ভালোবাসায় মজলে অন্য রকম অনুভূতিকে হয়। তা হলে কি আমার এই অনুভূতি সেই ভালোবাসা?

দেখ কাকন বৌদি, 

আমি কতটা বোকা আজও কথা হলো তার সাথে কিন্তু নামটা জানা হলো না, আমার কাছে থেকে গেল শ্যামা মেয়ে হিসেবে। তা যাই হোক নাম্বার যখন পেয়েছি দেখা একদিন হবে,সেদিন না হয় নাম টা জেনে নেব, কি বলো? 

আমি উদগ্রী হয়ে ভাবছি তার নিমন্ত্রণে কখন সাড়া দেব। ভাবতে ভাবতে ভাবাষে কেটে গেল বেশ কিছু দিন। হঠাৎ ডে অফের সুযোগে তাকে কল করে বসলাম।  সেই মহনীয় কন্ঠে কুশল বিনিময় তার কোথায় আসবো? কখন কফির পেয়ালায় আনমনে চুম্বন করবো? এসব জানা শুনা শেষে বিকেলে ঢাবি লাইব্রেরী গেটের সামনে মিলন দায়ের কফি হাউজে আমন্ত্রণ পেলাম। সকাল গড়িয়ে দুপুর তার পর বিকেল আহ সময় টা আজ বড্ড স্লো চলছে।  একসময় বিকেল চলে এলো আমি সেবারের পূজোয় তোমার দেয়া লাল আর সাদা কম্বিনেশনের পাঞ্জাবী আর জিন্স, কালো সানগ্লাস পরে চলে গেলাম যথা স্থানে। ভেবেছিলাম মনে হয় একটু আগে পৌছে গেছি। ও বৌদি ভাই শাহবাগ থেকে লাল টকটকে চারটা গোলাপ নিতে কিন্তু ভুল হয়নি আমার।

জানো বৌদি মনি,

আমার সেই আবেগ আর উৎকন্ঠা তোমাকে পত্রযোগে বুঝানোর ভাষা আমার জানা নেই। ক্ষনকাল অপেক্ষায় পর দেখলাম দুর থেকে একটা রিকশা ঠিক আমার পাশে এসে দাড়ালো, সে রিকশা থেকে নেমে আমার দিকে ধীর কদমে আসছে শ্যামা মেয়ে। কি বলবো? কি করা উচিত?  না বুঝে হাতে থাকা চারটি গোলাপ তার দিকে এগিয়ে দিতেই মৃদু হাসি দিয়ে ফুলগুলো গ্রহন করলো। এরপর কদাচিৎ দুরুত্ব বজায় রেখে শুরু হলো কথোপকথন। অর্ডার হোল কফির এভাবেই বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। সারা বেলা জুড়ে আমি ছিলাম অনেকটাই শ্রোতা। বিক্রমপুরের শ্রীনগরের মেয়ে। বাবা ঔষধ ব্যবসায়ী, মা স্কুল শিক্ষক, ছোট একটা ভাই আছে নাম প্রত্যয়। নিজে ঢাবির সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্রী। হলে থাকেন না, দাদুর বাসা যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা। এত কিছু বললো নিজের নামটা কিন্তু বললো না। হয়তো তার মনে হয়নি আমি তার নামটা জানি না। আমি আমার সম্পর্কে যতটুকু না বললে নয় বললাম। কিন্তু সাহস করে ফুল দিতে পারলেও নামটা জানতে চাওয়ার সাহস আমার হয়নি। নানান কথা শেষে সেদিনের মত বিদায় নিল। 

জানো বৌদি মনি,

এভাবেই আমাদের কথা হতো প্রতিদিন, সময় পেলেই দেখা হতো,আমার বাইকের পিছনে বসে ঢাকা শহরে নানা প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছে। একসময় কখন যেন বন্ধুত্ব থেকে আমাদের মাঝে ভালোবাসা হয়ে গিয়েছিল তা আমি বোধ করি আমরা বুঝতে পারিনি। আমার নিত্য দিনের সব কিছু তার ইচ্ছেতে চলতে শুরু হলো। তার বেলায় আমার ইচ্ছে টাই ছিল আসল। এভাবে ভালোই কাটছিল আমাদের সময়। সে আমার কাছ থেকে সময় নিয়ে ছিল দু বছর তারপর সাতপাকে বাধা পড়বে আমার সাথে। কেমন করে সংসার সাজাবে? কয়টা বাবু হবে? তাদের কি নাম হবে? সব ঠিক করে রেখেছিল? বাবু’দের নাম গুলো ছিল বড়ই অদ্ভুত। তা নাকি দুই ছেলে হবে আর এক মেয়ে।  মেয়ের নাম হবে চুলবুলি। ছেলেদের নাম হবে ঘচু আর পুকি?  কি আদুরে নাম তাই না। আমিও তাকে ঘচুর মা বলে ডাকতে শুরু করেছিলাম। কেটে গেল প্রায় বছর। সব ঠিকঠাক ছিল। 

কাকন বৌদি ভাই, 

একদিন সকাল থেকে তার মোবাইল এর সুইচ অফ পাচ্ছিলাম। হয়তো মোবাইল এর কোন সমস্যা হতে পারে। রাতেতো ঘুমানোর আগে আমার সাথে তার কথা হয়েছে।  এভাবে সকাল গড়িয়ে দুপুর তার কি দুপুর গড়িয়ে বিকেল শেষে রাত। তার কোন খবর আমি পেলাম না। অবশ্য একদিন তার এক খুব কাছের বন্ধু রবিনের সাথে নিয়ে  আমার অফিসে এসেছিল পরিচয় হওয়ার সুবাদে তার নাম্বার আমার কাছে ছিল। কয়েক বার ফোন হাতে নিয়েও নানা চিন্তায় তাকে আর কল দেওয়া হয়নি। অবশেষে পরদিন সকালে তাকে কল দিতেই সে আমাকে যা শোনালো তার চেয়ে এক পেয়ালা বিষ মনে হয় আমার কাছে উত্তম ছিল বৌদি ভাই। তার কথায় আমার সব এলোমেলো হয়ে গেল বৌদি মনি। শ্যামা মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে স্বামী একজন প্রাইভেট ব্যাংকের কর্মকর্তা। মোটা অংকের বেতন,ঢাকায় দুটি ফ্লাট আর নিজস্ব প্রাইভেট কারের মালিক। সব মিলিয়ে সোনাই সোহাগা। তাই শ্যামা মেয়ের পরিবারও সুযোগ হাত ছাড়া করেনি। অন্য দিকে আমার মত দু পয়সায় সাংবাদিক দিয়ে কি হবে বলো? কোন কোন মাসের বেতন বকেয়া থাকে?  চলতে হয় ঢিলে তালে। নুন আনতে পানতা ফুরায়।

বৌদি মনি, 

আমার সব স্বপ্ন অমানিশার মাঝে হারিয়ে গেল। বনলতা আর সূচিত্রা সেনকে কল্পনা করে আঁকা শ্যামা মেয়ের ছবি ক্যানভাসে অর্ধসমাপ্ত ছবি হয়ে রয়ে গেল। গেল পূজার লাগানো গাছের সব ফুল সপ্তমিতে বিসর্জন হয়ে গেল। প্রতিমা বোধন আর বুঝি হলো না। তোমার কথা সত্যি হলো আমার চাওয়া অধোরা রয়ে গেল। বৌদি  মনি ভালো থেকো। আমি দূর হতে তোমার মাঝে আমার হারিয়ে যাওয়া শ্যামা মেয়েকে দেখে যাবো। ও হ্যাঁ তার নামটা কিন্তু আমি দ্বিতীয় বার কথার মাঝে জেনে ছিলাম। তা তোমাকে বলা হয়নি যখন তো থাক। তোমার আমার কাছে না বাকি জীবন শ্যামা মেয়ে হয়ে থাক। কোথাও আমার জন্য ভালোবাসা না থাকলে তোমার কাছে আমার জন্য যে ভালোবাসা জমা আছে তা জমা থাক। ওটাকে পুঁজি করে বাকি জীবন টা না হয় কাটিয়ে দিব। শ্যামা মেয়ে সব নিয়ে গেলেও তোমার চরনে পাওয়া ঠাঁই টুকোতো আর নিতে পারিনি। বেঁচে থাকলে দ্রুতই দেখা হবে। আর তখনি শ্যামা মেয়ের না বলা কথা গুলো তোমায় বলবো যা এখানে বলা হলো না। আর্শিবাদ রেখ।

ইতি 

তোমারই ঠাকুপো 

নিশিকান্ত

(একটি ছোট গল্পঃ লেখকঃ রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর