আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাজকুমারী জীবন কাব্য (২য় পর্ব)

রাবিদ চঞ্চলঃ-

চাঁদের আলোর মত মুখ দেখেই রাজকুমারীর নাম দেওয়ার পাশাপাশি রাজকুমারীকে মানুষের মত মানুষ করার সিদ্ধান্ত নিলেন ঠাকুর দা রাজ নারায়ণ রায় চৌধুরী। পরদিন কন্যার মেয়ে নাতনিকে দেখতে দূর গ্রাম থেকে ছুটে এলেন আরেক গিরোস্থ দাদু প্রতাপ চৌধুরী। নাতনির হাস্যজ্বল মুখখানী দেখে তাকে বড় দি বলেই সম্মোধন করলেন দাদু। দু বিয়াই এর সহায় সম্পদের কমতি ছিল না আর নিয়ে নানা ধরনের মামলা মোকদ্দমারও কমতি ছিল না সেকারনেই দুজন মিলে রাজকুমারীকে আইন পেশায় পড়াশুনা করাতে মন স্থীর করলেন। কিন্তু রাজকুমারীতো কেবল দুধের শিশু তাতে কি বাসনাতো আর শিশু নয়। এভাবেই গ্রামের পরিবেশে দিনে দিনে বেড়ে উঠছে রাজকুমারী। তাকে দেখভালের জন্য পিছু পিছু সর্বদা কম করে হলেও দুএকজন কাজের লোকতো আছেই। এভাবেই দিন,রাত,মাস,বছর যেতে যেতে রাজকুমারীর জীবন থেকে কেটে গেল ছয়টি বছর। এতদিনে রাজকুমারী বাড়িতে পন্ডিত মহাশয়ের কাছে টুকটাক ধর্ম শিক্ষা, বাংলা, গনিত শিখে গেছে এবার তাকে স্কুলে ভর্তি হতে হবে। অবশ্য এই ছয় বছরে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে, বদলে গেছে সোনাপুর গ্রামও। মেঠোপথের কিছু কিছু স্থানে বসেছে ইট। গ্রামের মানুষ গুলো ধারনা পেতে শুরু করেছে আধুনিক বিশ্বের। টেলিভিশন নামের অদ্ভুত এক ছবি দেখার বাস্ক এসেছে গ্রামে। ব্যাটারীর সাহায্যে চলে এই টেলিভিশন, পাশে বাসের আগায় বড় এক এন্টিনা টানিয়ে রাখা মাঝে মধ্যে কয়েক জন মিলে এই এন্টিনা গ্রামের ভাষায় এরিয়াল এদিক সেদিক ঘুরিয়ে ছবি ক্লিয়ার করতে হয়। যাই হোক এই অবস্থায় রাজকুমারীকে উচ্চ শিক্ষা দেয়ার জন্য বড় দুই দাদা আর মা সমেত পাঠানো হলো মহাকুমা শহরে। ভর্তি করানো হলো ভুবোন মোহিনী গার্লস স্কুলে। পড়া শুনায় খুব ভালো করতে থাকে রাজকুমারী। গ্রামের পরিবেশ থেকে আসা সেদিনের সেই সাদামাঠা রাজকুমারী ইতোমধ্যে কয়েক বছরের হয়ে উঠেছে অসাধারণ। মেধা, প্রজ্ঞায় এগিয়ে গেছে ঢের। দাদু ঠাকুর দার স্বপ্নকে হৃদয়ের গহীনে নিয়ে সামনে আগাতে হবে এটাই তার একমাত্র লক্ষ্য। এভাবেই চলছে তার নিত্যদিনের কর্মযোগ্য। প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে সেকেন্ডারীর গন্ডিতে পা দিয়ে বেশ খানিকটা এগুতেই রাজকুমারীর চলার পথে আচমকা নেমে এলো অমানিশার আধার।
(চলমান)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর