আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৌরসভার নির্বাচনী হওয়ায় বেনাপোলে বিশাল আনন্দ মিছিল

জাকির হোসেন,শার্শা প্রতিনিধি : ৫ বছর মেয়াদ শেষে পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ এবং ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন’র খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন হওয়ায় পৌরসভার নির্বাচনী হাওয়ায় বেনাপোলে বিশাল আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি মুখ করেছেন পৌরবাসী।
মন্ত্রীপরিষদে স্থানীয় সরকার(পৌরসভা)(সংশোধন) আইন-২০২১ খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় যশোরের শার্শার এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এ আনন্দ মিছিল, পথসভা ও মিষ্টি মুখের আয়োজন করেন বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন। 
সোমবার বিকেলে বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক মুকুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বাজার এলাকার পথসভাটি বিশাল জনসভায় রুপ নেয়। এর আগে ছোটআঁচড়া মোড় আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ হতে বিশাল এক আনন্দ মিছিল নিয়ে যশোর-কোলকাতা প্রধান সড়কের উপর দিয়ে বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী। 
এসময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান অহিদ, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বজলুর রহমান, বাজার কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আজিজুর রহমান, বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫’র সভাপতি রাজু আহমেদ, ৮৯১’র সভাপতি আকতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানে, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মহাতাব উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক আকবার আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবল হোসেন রাসেল, বেনাপোল পৌর যুবলীগের আহবায়ক ও পৌর কাউন্সিলর আহাদুজ্জামান বকুল, যুগ্ম আহবায়ক জসীম উদ্দিন, সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আল মামুন জোয়াদ্দার, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা সুলতান আহমেদ বাবু, আবু বাক্কার বাক্কা, জুলফিকার আলী জুলু, সিরাজুল ইসলাম, বাবলুসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
উল্লেখ্য, সীমানা জটিলতার কারণে বেনাপোল পৌরসভায় প্রায় ৭ বছর যাবত নির্বাচন হচ্ছে না। ২০০৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বেনাপোল ইউনিয়নের (৮.৬০) বর্গমিটার আয়তনের ১১টা গ্রামের অংশ নিয়ে তৃতীয় শ্রেণীর বেনাপোল পৌরসভা ঘোষণা করেন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতা আলহাজ্ব শামছুর রহমান ২০০৬ সালের ১৬ এপ্রিল বেনাপোল পৌরসভার প্রথম প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে সরিয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশীর আহমদকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. আব্দুল হাকিম ও কামরুল আরিফ। ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের হাত ধরে তৃতীয় শ্রেণী থেকে ২য় শ্রেণীতে উন্নীত হয় বেনাপোল পৌরসভা। 
২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি বেনাপোল পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে ভোটে স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের হাত ধরে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয় আশরাফুল আলম লিটন। ২০১১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর শেখ আফিল উদ্দিন এমপির নিরলস প্রচেষ্টায় বেনাপোল পৌরসভা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে। ৫ বছর মেয়াদে ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি পৌরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে কিন্তু বহাল তবিয়তে রয়েগেছেন সেই একই মেয়র। তিনি স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনসহ পৌরবাসীকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে একের পর এক নামে বে-নামে সীমানা ঝটিলতা মামলা দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছেন পৌরসভার নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে পৌর ভোটের অধিকার ও নাগরিক সুবিধা না পেয়ে হতবাক হয়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা আইন-২০০৯ আইনের সুযোগ নিয়ে অনেক এলাকার পৌর মেয়ররা নির্বাচিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিজেদের লোকজন দিয়ে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে আদালতে মামলা ঠুকে দেন। এতে মামলা নিষ্পত্তির আগে পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকে না। আর মামলা বছরের পর বছর চলার সুযোগে আগের মেয়রই দায়িত্ব পালন করেন। এমন সমস্যা থেকে উত্তরণে পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের খসড়া প্রস্তাব (পৌরসভা) (সংশোধিত) ২০২১ আইন পাশ হয়েছে। এ আইনটি পাস হওয়ায় পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ এবং নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হলো। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর