আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নওয়াপাড়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা রেজাউলের সংবাদ সম্মেলন

দেবহাটা প্রতিনিধি: নির্বাচনের আগেই সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা রেজাউল করিমের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির হিসাবে গরমিল এবং ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন টানা ৮ বছর সেখানকার মানুষের জন্য এক অত্যাচারী শাসকের শাসনকাল উল্লেখ করে সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রেজাউল করিম। বিএনপির একসময়ের অস্ত্রধারী ও দুর্ধর্ষ ক্যাডার আখ্যা দিয়ে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ওই সংবাদে তার শাসনামলে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বেজোরআটিতে সাইদুল, শিমুলিয়ার ফুটবলার অহিদ, গাজীরহাটের শিশু ফয়সাল এবং আটশতবিঘার সংখ্যালঘু আনন্দ সিংয়ের নৃশংসভাবে হত্যার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, এসব হত্যাকান্ডের ঘটনায় রেজাউল করিমের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কারনে অদ্যবধি এসব লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের কোন সুবিচার পায়নি নিহতদের পরিবার। এমনকি ফুটবলার অহিদ হত্যা মামলায় রেজাউল করিমের চাচতো ভাই লিটন সরদার, সাজু সরদার, এবাদুল মেম্বর সহ তার কাছের লোকজন আসামী থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয় সংবাদে। তাছাড়া ওই খবরটিতে আরোও উল্লেখ করা হয়েছিল, চেয়ারম্যান থাকাকালে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারসহ সর্বস্তরের মানুষ রেজাউল করিমের সন্ত্রাসী বাহিনীর অবৈধ অস্ত্রের মুখে জিম্মি থাকতো। শালিষের নাম করে নীরিহ লোকদের ধরে এনে দড়ি দিয়ে বেধে ইউনিয়ন পরিষদে ফেলে তাদের উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হতো। এছাড়া নাশকতাকালীন সময়ে তার নেতৃত্বে গরানবাড়িয়ায় শ্রমিকলীগ নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যা, আ.লীগ নেতা শরৎ ঘোষ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্তমান সভাপতি সুভাষ ঘোষ এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমানের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, দেবীশহরে প্রয়াত আ.লীগ নেতা বিশ্বনাথ ঘোষের অফিস ভাংচুরসহ অসংখ্য সহিংস ঘটনা সংঘটিত হয়। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধানে একাধিকবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালায়। সেসময় র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে প্রানে বেঁচে গেলেও সেনাবাহিনী অভিযানে রেজাউল করিম গ্রেপ্তার হয়ে বেদম প্রহারের শিকার হয়েছিলেন বলেও সংবাদটিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে রবিবার দুপুরে দেবহাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে নওয়াপাড়া ইউনিয়নে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এবারের নির্বাচনেও আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। চেয়ারম্যান হিসেবে আমি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছিলাম ইউনিয়নের মানুষের আপদ-বিপদে পাশে ছিলাম। মানুষ এখনও আমাকে ভালবাসে। নির্বাচন ঘিরে আমার জনপ্রিয়তায় ইশ্বার্নিত হয়ে প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে এধরনের খবর প্রকাশ করিয়েছে।তিনি উল্লেখ করে আরো বলেন, আমার শাসনামল নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সংবাদে আমাকে অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী ও বিএনপির দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সহ সকল শ্রেণির মানুষের কাছে আমার শাসনামল নাকি একজন অত্যচারী শাসকে শাসনামল ছিল। আমার সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকান্ড ও মানুষ নির্যাতনের ঘটনায় আমার প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সম্পৃক্ততা বা আমার কাছের লোকজন জড়িত থাকায় আমি সেসব হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছি। যার ফলে এসব হত্যাকান্ডের কোন বিচার পাননি নিহতদের পরিবার। আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সঠিক নয়।পাশাপাশি তার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির হিসাবে গরমিল হওয়া ব্যাপারে তিনি প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন রেজাউল করিম। তবে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকেরা তাকে এসংক্রান্ত বিষয়ে কোন প্রশ্ন করার আগেই তড়িঘড়ি করে লিখিত বক্তব্য শেষ করে প্রেসক্লাব থেকে চলে যান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর